মালায়লি অভিনেত্রীর ছবি ছড়াল দেশের ধর্ম ও জাতিবিহীন মহিলা স্নেহা বলে

বুম দেখে অভিনেত্রী অনুমোল কে. মনোহরণের ছবিটি দেশের প্রথম ধর্ম ও জাতিবিহীন নারী স্নেহা পার্থিবরাজা হিসাবে ছড়াচ্ছে।

মালায়লি অভিনেত্রী অনুমোল কে মনোহরণের ছবি বিভ্রান্তিকর দাবি সহ সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হচ্ছে। ভারতের প্রথম ধর্ম ও জাতি বিহীন নারী স্নেহা পার্থিবরাজার (Sneha Parthibaraja) সঙ্গে তালগোল পাকিয়ে অভিনেত্রী অনুমোলের ছবিটি সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর তিরুপাথুরের (ভেলোরের) বাসিন্দা বর্তমানে পেশায় আইনজীবি স্নেহা পার্থিবরাজের (Sneha Parthibaraja) জন্ম শংসাপত্র থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষাগত যোগ্যতার অন্যান্য শংসাপত্রের কোথও নিজের নামের সঙ্গে ধর্ম ও জাতিগত পরিচয় লেখেননি। ২০১৯ সালে তামিলনাড়ু সরকার স্নেহাকে ধর্ম ও জাতিপরিচয় ছাড়া শংসাপত্র দেন। তিনিই ভারতের প্রথম আইনত বৈধতাপ্রাপ্ত জাতি-ধর্ম বিহীন মহিলা।

ভাইরাল হওয়া ফেসবুক পোস্টে এক মহিলার ছবি সহ ক্যাপশন লেখা হয়েছে, "আজ যে লড়াকু মেয়েটির কথা লিখবো সে এই দেশেরই একজন মেয়ে, নাম স্নেহা পার্থিবরাজ, বয়স ৩৫ বছর। বাড়ী তামিলনাড়ুর তিরুপাত্তুরে। পেষায় একজন আইনজীবী। কিন্তু ইনি এই অল্প বয়সেই দারুন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে এক ব্যাতিক্রমি কাজ করে ফেলেছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ফর্ম্ ফিল্ আপ্ করার সময় ধর্ম ও বর্ণে ঘর খালি রেখে দিতেন। আমাদের মত দেশে যেখানে ধর্ম ও বর্ন দিয়ে মানুষকে বিচার করা হয় সেখানে এই ধরনের পদক্ষেপ সত্যিই অচিন্তনীয়। তিনি নিজেকে ধর্মহীন বর্ণহীন একজন সাধারন মানুষ হিসাবে পরিচয় দিতেন। তাঁর এই কাজে তাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন তার স্বামী কে পার্থিবরাজ। দীর্ঘ্য দশ বছর কঠিণ লড়াইয়ের পর তার এই লড়াইকে স্বিকৃতি দেই তামিলনাড়ু সরকার। তিনি আজ ধর্মহীন বর্ণহীন শুধুই একজন মানুষ।"

পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে। পোস্টটির আর্কাইভ করা আছে এখানে

আরও পড়ুন: ২০১৭ সালে মালদায় বন্যা এলাকায় যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছড়াল

তথ্য যাচাই

বুম ছবিটিকে রিভার্স সার্চ করে জানতে পারে ছবির মহিলা স্নেহা পার্থিবরাজ নন। ভাইরাল ছবিটি মালায়ালি অভিনেত্রী অনুমোল কে মনোহরণের। ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুমোল তাঁর এই ছবিটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন।

ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেস আইএমডিবি-এর তথ্য অনুযায়ী অনুমোল কে. মনোহরণ (Anumol K. Monaharan) ইভান মেঘারূপন, সুল্লু, নীলভারিয়াথি প্রভৃতি মালায়লম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্নেহা পার্থিবরাজের ধর্ম ও জাতিবিহীন পরিচয়ে সরকারি শিলমোহর পড়লে কমল হাসান সহ অন্যান্য নেটিজেনরা তাঁর প্রশংসা করে টুইট করেন।

আরও পড়ুন: গুজরাতের আমদাবাদে রাস্তায় ধসের ছবি ছড়াল উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর বলে

Updated On: 2021-08-09T16:47:32+05:30
Claim Review :   ছবির দাবি জাতি-ধর্ম বিহীন হওয়ার শংসাপত্র পাওয়া দেশের প্রথম মহিলা স্নেহা পার্থিবরাজ
Claimed By :  Facebook Post
Fact Check :  Misleading
Show Full Article
Next Story