'Amrela' বানান বলা ছাত্রীর আত্মহনন? ভুয়ো দাবিতে ছড়াল ভিন্ন ছবি

বুম দেখে মালদার হবিবপুর থানার ডুবাপাড়ায় ফেল করা ছাত্রীর আত্মহনননের সঙ্গে নদীয়ায় 'আমরেলা' বলা ছাত্রীর কোনও সম্পর্ক নেই।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ছাতার ইংরেজি নামের বানান আমব্রেলার (Umbrella) পরিবর্তে 'আমরেলা' (Amrela) বলা উচ্চ মাধ্যমিকে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থী আত্মহনন (Suicide) করেছেন ভুয়ো দাবিতে ছড়াল ভিন্ন ছবি। ফেসবুুক পোস্টে সম্পর্কহীন ছবি শেয়ার করে দাবি করা হয়েছে ট্রোলে জেরবার হয়ে আবসাদে আত্মহনন করেছেন ওই ছাত্রী।

বুমের তরফে নদীয়ার বীরনগরের শিবকালী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সেই পড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলা হয়। বুম দেখে মালদায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার অবসাদে আত্মহত্যা করা ছাত্রীর ছবি ভুয়ো দাবিতে শিবকালী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়েের ছাত্রীর নামে ছড়ানো হচ্ছে।

উচ্চমাধ্যমিকে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীরা পাশ করানোর দাবিতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধ করে। সে সময় এক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এক পড়ুয়ার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ছাতার ইংরেজি নামের বানান আমব্রেলার (Umbrella) পরিবর্তে ভুল করে 'আমরেলা' (Amrela) বলায় সোশাল মিডিয়ায় ট্রোলের শিকার হন ওই ছাত্রী।

ফেসবুক পোস্টে মাস্ক পরা ওই ছাত্রীর ছবির সঙ্গে এক মৃতদেহের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশন লেখা হয়েছে, "মেয়েটিকে নিয়ে প্রতিনিয়ত ট্রল করেছিল সবাই ।মেয়েটি সুইসাইড করলো।। umbrella বানান বলতে পারেনি বলে তাকে প্রতিনিয়ত ট্রল করেছে সবাই আর মেয়েটি সেটা সহ্য করতে না পেরে সুইসাইড করলো এটাই হচ্ছে আমাদের পশ্চিমবঙ্গ যেখানে কেউ কিছু ভুল করলে তাকে নিয়ে ট্রল শুরু করে দেয়।।"


পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে


পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে

আরও পড়ুন: ভুয়ো দাবি সহ ছড়াল কলকাতা পুলিশের আত্মহননের ভিডিও

তথ্য যাচাই

বুম মৃতদেহের ছবিটি রিভার্স সার্চ করে ১৮ জুন, ২০২২ প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার এক প্রতিবেদন খুঁজে পায়।

প্রতিবেদনটিতে ওই ছবি প্রকাশ করে লেখা হয়, "উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ইংরেজিতে ফেল করায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলো এক ছাত্রী। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে মালদার হবিবপুর থানার থানার ডুবাপাড়া এলাকায় । মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।"

মৃতা ওই ছাত্রীর নাম শম্পা হালদার বলে উল্লেখ করা হয় ওই রিপোর্টে। ওই ছাত্রী স্থানীয় আর এন রায় গার্লস স্কুল থেকে এবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এব্যাপারে আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদন পড়া যাবে এখানে

এব্যাপারে ক্যালকাটা নিউজের রিপোর্ট নিচে দেখুন।

আমরা প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে 'এইচপিআর ফ্যান ক্লাব' নামে এক ফেসবুক পেজে ১৫ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এক ভিডিও ১৩ জুন, ২০২২ লাইভ সম্প্রচারণ হতে দেখি। রাস্তায় প্লাকার্ড হাতে একদল ছাত্রীকে পাশ করানোর দাবিতে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। ওই ভিডিওতে এক ছাত্রীকে মনোজিৎ সরকার নামের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আমব্রেলা বানানের ইংরেজি বানান ভুল করে 'Amrela' বলতে দেখা যায়।

ভিডিওটির শুরুতে উচ্চমাধ্যমিকে অকৃতকার্য হওয়ার পর ছাত্রীদের প্রতিবাদের ঘটনাটি বীরনগরের শিবকালী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বলে উল্লেখ করা হয়। বীরনগরের ফেল করা পড়ুয়াদের ঘটনা নিয়ে খবর প্রকাশ করে গণমাধ্যম নিউজ ১৮ বাংলা

ভাইরাল ভিডিওর ওই ছাত্রীর ব্যাপারে জানতে বুম এইচপিআর নিউজ বাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এইচপিআর নিউজ বাংলার তরফে সৌরভ সরকার বুমকে নিশ্চিত করেছেন যে ভাইরাল ভিডিওর ছাত্রী নদীয়ার বীরনগরের শিবকালী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পড়ুয়া। তিনি আমাদের জানান ভাইরাল হওয়া ফেসবুক পোস্টের আত্মহননের দাবি ভুয়ো।

এইচপিআর নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে বুমকে ওই ছাত্রীর নাম ও যোগাযোগের নম্বর দেওয়া হলে বুমের তরফে ছাত্রীটির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলা হয়। তিনি উচ্চমাধ্যমিকের মার্কশিট নিয়ে রিভিও নিয়ে ভাবনাচিন্তার কথা জানান আমাদের।

বুম ছাত্রীর পরিচয়ের গোপনীয়তা রক্ষার্থে নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

(যদি আপনি কিংবা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক সমস্যায় ভোগেন এবং আত্মহত্যাপ্রবণ হন, তাহলে আপনাকে সাহায্য করার ব্যবস্থা আছে। আত্মহত্যা-প্রতিরোধের হেল্পলাইন নম্বর জানতে ক্লিক করুন এখানে (ভারতের জন্য) ও এখানে (বাংলাদেশের জন্য)।

আরও পড়ুন: না, নূপুর শর্মাকে ৩৪টি দেশ সমর্থন করেনি

Updated On: 2022-06-20T11:33:50+05:30
Claim :   ছবিতে দেখা যায় আমব্রেলা বানান ভুল করা ভাইরাল ছাত্রী সোশাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের অবসাদে আত্মহত্যা করেছে
Claimed By :  Social Media Users
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.