মালদায় গ্রেফতারি অসম্পূর্ণ তালিকা পোস্ট করে ছড়াল সাম্প্রদায়িক দাবি
বুমকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ নিশ্চিত করে ভাইরাল তালিকাটি অসম্পূর্ণ এবং পূর্ণ তালিকায় হিন্দু-মুসলিম উভয় পক্ষেরই নাম রয়েছে।



সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মালদার (Malda) মোথাবাড়িতে (Mothabar) সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে (communal violence) গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের এক তালিকা বিভ্রান্তিকর সাম্প্রদায়িক দাবি সমেত ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে। ব্যবহারকারীরা তালিকাটির ছবি শেয়ার করে দাবি করেন, মোথাবাড়িতে সংঘর্ষের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কেবল হিন্দুদেরই (hindu) গ্রেফতার করেছে।
বুম দেখে গ্রেফতারির তালিকাটি অসম্পূর্ণ। বুমের পাওয়া সম্পূর্ণ তালিকায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলিম, উভয় সম্প্রদায়ের মানুষেরই নাম রয়েছে।
মালদার মোথাবাড়ির এক মসজিদের সামনে রাম নবমী উপলক্ষে আয়োজিত একটি মিছিল চলাকালীন বাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরপর, ২৭শে মার্চ, উত্তেজিত জনতা পুলিশ ব্যারিকেডের সামনে প্রতিবাদ করে ও নিরাপত্তা রক্ষীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে। এখনও পর্যন্ত, পশ্চিমবঙ্গ জেলা পুলিশ ৬৩জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং অশান্তি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
ভাইরাল পোস্টে গ্রেফতার হওয়া ২১ জন অভিযুক্তের নামের তালিকা দেখা যায়।
টলিউড অভিনেতা এবং ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা রুদ্রনীল ঘোষ পোস্টটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, "মালদার মোথাবাড়ির অশান্তি-ভাঙচুরে পিসি-পুলিশ বেছে বেছে কাদের গ্রেপ্তার করলো সেই প্রথম ২১ টা নাম মন দিয়ে পড়ে নিন। তারপর "একই বৃন্তে দুটি কুসুম" আবৃত্তি করতে করতে নিজের ভবিষ্যৎ বুঝে নিন। Happy সানডে."
পোস্টটি দেখুন এখানে , আর্কাইভ দেখুন এখানে।
তথ্য যাচাই
বুম দেখে ভাইরাল তালিকাটি অসম্পূর্ণ। পূর্ণ গ্রেফতারি তালিকায় শুধুমাত্র হিন্দু নয়, অন্যান্য সম্প্রদায়ের নামও দেখতে পাওয়া যায়।
আমরা মালদা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সম্ভব জৈনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ভাইরাল দাবিটি খণ্ডন করেন।
তিনি বলেন, "শুধুমাত্র হিন্দুদের গ্রেফতার করার দাবিটি ভুল। হিন্দু ছাড়াও, মোথাবাড়ি সংঘর্ষের সঙ্গে যুক্ত অন্য সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।"
বুম এরপর যাচাই করে দেখে, ভাইরাল ছবিটি মালদার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপিত গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের নামের তালিকাগুলির মধ্যেকার এক নথির। ছবিতে ২৯ মার্চ, ২০২৫, তারিখে আদালতের সামনে যে ২১ জন অভিযুক্তকে হাজির করা হয়েছিল, তাদের নাম সেখানে দেখতে যায়। ছবিটি ঘটনা সংক্রান্ত আদালতের আধিকারিক রেকর্ডের একটি অংশ।
আমরা ২৮ মার্চ, ২০২৫ তারিখে আদালতে উপস্থাপিত অভিযুক্তদের তালিকাটি পাই এবং তাতে আরও ১৩ জন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম পাই, যাদের একজনও হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তর্গত নয়।
প্রতিবেদনে তালিকাটি অন্তর্ভুক্ত না করলেও, বুম যাচাই করতে সক্ষম হয়েছে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়।
ভাইরাল দাবিটিকে ভুয়ো বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জৈন এবিষয়ে জানান, "ধর্ম-মত নির্বিশেষে পুলিশ সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।"
মালদা পুলিশ তাদের ফেসবুক পেজেও এই ভাইরাল দাবিটিকে খণ্ডন করে একটি সতর্কতা জারি করে। পোস্টে মালদা পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, ২৭ মার্চ, ২০২৫ তারিখে দুই গোষ্ঠীর একে অপরকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। ২৮ মার্চ, ২০২৫ তারিখের সংঘর্ষে মালদা পুলিশ পরে আরও ২১ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ও সেই সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু পুলিশ কর্মীও আহত হন।
মালদা পুলিশ জানায়, হিংসার ঘটনায় মোট ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ভাইরাল দাবির মতো ২১ জনকে নয়।