সম্পর্কহীন ছবি সহ ম্যাডোনার হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে ভুয়ো মন্তব্য ভাইরাল

বুম দেখে ম্যাডোনা কাব্বালা ধর্মাবলম্বী। নমস্কারের ভঙ্গিমা ও কুমকুম-তিলক পরা ছবিগুলি ১৯৯৮ সালের এমটিভির একটি অনুষ্ঠানের।

মার্কিন পপস্টার ম্যাডোনার কুমকুম ও কপালে তিলক পরা এবং নমস্কারের ভঙিমায় তিনটি সম্পর্কহীন ছবি সহ একটি ভুয়ো মন্তব্যের বিভ্রান্তিকর গ্রাফিক পোস্টার ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ওই গ্রাফিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে ম্যাডোনা শ্রী অম্বরীশ অবধূত নামে এক গুরুর শিষ্যা এবং তিনি সনাতনী হিন্দু ধর্মের প্রতি আস্থা ও অনুরাগ ব্যাক্ত করেছেন।

বুম দেখে ম্যাডোনার তিলক পরা ছবিটি ১৯৯৮ সালে ১০ সেপ্টেম্বররের এম টিভি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের একটি অনুষ্ঠানের। ম্যাডোনা ক্যাথলিক পরিবারে জন্মালেও ইহুদি অতীন্দ্রবাদ কাব্বালাতে বিশ্বাসী।

ফেসবুকে শেয়ার হওয়া গ্রাফিক পোস্টারে ম্যাডোনার তিনটি বিভিন্ন সময়ের সম্পর্কহীন ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। একটি ছবিতে ম্যাডোনাকে দু'হাত জোড় করে সনাতনী প্রথায় নমস্কারের ভঙ্গিতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে দেখা যায় ম্যাডোনার কপালে বৈষ্ণব রীতিতে তিলক ও কপালে কুমকুমের ফোটা দেওয়া হয়েছে।

গ্রাফিক পোস্টারটিতে লেখা রয়েছে, "হিন্দু ম্যাডোনা। সনাতন ধর্মই শ্রেষ্ঠ। ঈশ্বরকে পাওয়ার এত সরলীকরণ আর কোন ধর্মে হয় না। আমার গুরু শ্রী অম্বরীশ অবধূত রাধার ভাব ধরে ঈশ্বরকে পাওয়ার কথা বলেছিলেন। তাই আমার সংগীত- অলংকার সবকিছু ঈশ্বরের জন্য নিবেদিত।"

এই গ্রাফিক পোস্টারটি ফেসবুকে শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "আমি বারংবার একই কথা বলি। 'হিন্দুত্ব' পৃথিবীর একমাত্র শ্রেষ্ঠ ও বিজ্ঞানসম্মত মতবাদ। যারা হিন্দুত্বের বিরোধীতা করছে তারা হয় জমি মাফিয়া এবং সাম্রাজ্যবাদী প্রতিবেশী দেশের দালাল, না হয় মানবতা বিরোধী জেহাদী শক্তি দ্বারা প্রভাবিত।"
পোস্টটি দেখা যাবে এখানে। পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ম্যাডোনার গ্রাফিক পোস্ট।
তথ্য যাচাই
বুম দেখে ম্যাডোনার ভাইরাল হওয়া নমস্কারের ভঙ্গিমার ছবি দুটি পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কহীন এবং ছবিগুলির সঙ্গে ম্যাডোনার ব্যক্তিগত ধর্মাচারণের কোনও যোগ নেই। বুম গুগলে সার্চ করে শ্রী অম্বরীশ অবধূত নামে ম্যাডোনার কোনও গুরুর সন্ধান পায়নি।
বুম স্বাধীনভাবে শ্রী অম্বরীশ অবধূত নামে কোনও গুরুজি আছেন কিনা যাচাই করতে পারেনি।
ম্যাডোনার ধর্ম
২০০৬ সালের ৯ জুলাই প্রকাশিত ম্যাডোনাকে নিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাডোনা ক্যাথলিক হয়ে জন্মালেও তিনি ইহুদী অতিন্দ্রীয়বাদ কাব্বালাতে বিশ্বাস করেন। ১৯৯৭ সালে ম্যাডোনার বন্ধু কমেডিয়ান ও অভিনেত্রী সান্ড্রাবার্নহার্ড তাঁকে কাব্বালার সঙ্গে পরিচয় করান। ম্যাডোনার অধ্যাত্মিক গুরুর নাম রাব্বি ফিলিপ বার্গ।
রাব্বি ফিলিপ বার্গ ১৯৬৯ সালে জেরুজালেমে কাব্বালা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা করেন। কাব্বালা মতাবলম্বীরা হাতের কবজিতে লাল বিশেষ সুতো ধারণ করেন যা "কাব্বালা রেড স্টিং" নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে দুরাত্মার দৃষ্টি থেকে রক্ষা করবে। ম্যাডোনার কাব্বালা ধর্ম প্রাচীন হিব্রু রীতি ও ইতিবাচক ভাবনার সংমিশ্রণ। অনুগামীদের বিশেষ পবিত্র জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদন
২০০৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসের প্রতিবেদনেও ম্যাডোনার কাব্বলা ধর্মাচারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাডোনা বিভিন্ন সময়ে রোমান ক্যাথলিক চার্চের বিরুদ্ধে মুখ খুলে পাদ্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছেন

তিলক ও নমস্কারের ভঙ্গিমায় ছবি

বুম গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখে ম্যাডোনার নমস্কারের ভঙ্গিমায় ছবিটি গেট্টি ইমেজের সংগ্রহে রয়েছে। ছবির ক্যাপশনে লেখা আছে, "২৩ অক্টোবর, ১৯৯৮, নিউ ইয়র্ক সিটিতে ১৯৯৮ ভিএইচ১ ভগ ফ্যাশন এওয়ার্ডের মঞ্চে শাড়ী পড়ে ম্যাডোনার ভঙ্গিমা। (ছবির স্বত্ব ফ্রাঙ্ক মিসেলোট্টা/ গেট্টি ইমেজ)"

ম্যাডোনার তিলক ও কপালে কুমকুমের ফোটা দেওয়ার ছবিটি ১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এমটিভি মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের। ভাইরাল হওয়া ছবির মতো একই তিলক ও কুমকুমের সাজে বিভিন্ন মুহূর্তের ছবিগুলি দেখা যাবে এখানেএখানে। এমটিভি মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার মুহূর্তের ছবিগুলি দেখা যাবে এখানেএখানে

তিলক পরে ওই দিনের অনুষ্ঠানে "রে অফ লইট" সঙ্গীত পরিবেশন করার জন্য বিশ্ব বৈষ্ণব সংগঠনের তরফে এই ঘটনার নিন্দা করা হয়। "কলুষতা" বলে আখ্যা দেওয়া হয় ওই সংগঠনের তরফে। ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ প্রকাশিত এমটিভির প্রতিবেদন বিস্তারিত পড়া যাবে
এই বিষয়ে।
। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার আরেকটি প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে বিষয়টি।
১৯৫৮ সালের ১৬ অগষ্ট মিশিগানের বে শহরে জন্ম ম্যাডোনার। আশির দশকে পুরুষের একাধিপত্যে থাকা পপ সঙ্গীতের দুনিয়া কাঁপিয়ে স্বতন্ত্র জায়গা করে নেন ম্যাডোনা। খুব কম বয়সে স্তন ক্যান্সারে মাকে হারান তিনি।

Updated On: 2020-09-04T15:44:49+05:30
Claim :   পোস্টের দাবি ম্যাডোনা হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও শ্রী অম্বরীশ অবধূত-এর শিষ্যা
Claimed By :  Facebook Posts
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.