না, এটা গালওয়ানে চিনা সেনাদের সঙ্গে কর্নেল সন্তোষ বাবুর তর্কের ভিডিও নয়

বুম দেখে ভিডিওগুলি যথেষ্ট পুরনো এবং তাতে কর্নেল সন্তোষ বাবুকে দেখাও যায়নি।

ভারত ও চিনের সেনারা পরস্পর ঝগড়াঝাটি করছে, এমন দুটো পুরনো ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, এটা কর্নেল সন্তোষ বাবুর সঙ্গে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় কথা-কাটাকাটির দৃশ্য, যার পরেই ভারতীয় কর্নেলকে চিনা সৈন্যরা হত্যা করেl দাবিটা ভুয়ো।

এবিএন অন্ধ্র জ্যোতি নামে একটি তেলুগু সংবাদ-চ্যানেল ১৮ জুন, ২০২০ ভিডিওটি ইউ-টিউবে আপলোড করে দাবি করে, এটি চিনা সৈন্যদের সঙ্গে সন্তোষ বাবুর কথোপকথনের ছবি। ভিডিও ক্লিপে চ্যানেলের জলছাপটিও দাগানো রয়েছে।

সন্তোষ বাবু ছিলেন ১৬ নম্বর বিহার রেজিমেন্টের কমান্ডার, যিনি ১৫ জুন গালওয়ান সীমান্তে চিনা সৈন্যদের সংঘর্ষে মৃতদের মধ্যে প্রথম শনাক্ত হন। ওই সংঘর্ষে মোট ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিনের কত সৈন্য নিহত হয়েছে, সে বিষয়ে বেজিং এখনও সরকারি বিবৃতি দেয়নি।

কিন্তু ৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি দুটি আলাদা ক্লিপ জুড়ে তৈরি করা, যার একটিতে ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশদের দেখা যাচ্ছে, আর অন্যটিতে ভারতীয় স্থলবাহিনীর ইনফ্যান্ট্রি গ্রেনাডিয়ার্সদের, কোনওটাতেই বিহার রেজিমেন্টের চিহ্ন নেই, কর্নেল সন্তোষ যার কমান্ডার ছিলেন। খোঁজ করে দেখা গেছে, একটি ভিডিও ক্লিপ এ বছরের জানুয়ারি মাসের, অন্যটি অনেক পুরনো, ২০১৭ সালে তোলা।


ভিডিওটি দেখতে এখানে এবং তার আর্কাইভ সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

ফেসবুকেও ভাইরাল

এবিএন অন্ধ্র জ্যোতির এই তেলুগু ভিডিওটি ফেসবুকেও ভাইরাল হয়েছে একই ভুয়ো দাবি সহ, যার অনুবাদ করলে দাঁড়ায়ঃ "চিনাদের উদ্দেশে কর্নেল সন্তোষ বাবুর অন্তিম উক্তি l"

ভিডিওটির আর্কাইভ বয়ান দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

টেলিগু তে - కల్నల్ సంతోష్ బాబు చైనా వాళ్ళతో చివరగా మాట్లాడిన మాటలు.....)


বুম দেখলো, এবিএন তেলুগুর আপলোড করা এই ভিডিও ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের অনেকটাই আগের ঘটনার দৃশ্য। ইতিপূর্বে কংগ্রেস দলের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা যখন এই ভিডিওটাই সাম্প্রতিক চিন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষের ছবি হিসাবে প্রচার করেন, তখনই বুম সেটির পর্দাফাঁস করেছিল।

আমরা এবিএন চ্যানেলের এই ভিডিওগুলো অনুসন্ধান করে দেখি, ১৫ জুন ২০২০-এর অনেক আগে থেকেই এই ভিডিওগুলি অনলাইনে চালু ছিল।

প্রথম ক্লিপ (১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড পর্যন্ত)

এই ভিডিওটি আমরা ১৩ জানুয়ারি ইউ-টিউবে আপলোড করা দেখতে পাই কোনও এক ওয়াইবি ভ্লগ-এর নামে, যার শিরোনাম ছিলঃ "চিনা সৈন্যরা অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের জওয়ানদের সঙ্গে ঝগড়া করছে l"

বুম ভিডিওটি ঠিক কবে তোলা হয়, তা নির্ধারণ করতে পারেনি বটে, তবে এটি যে গালওয়ান উপত্যকায় বর্তমান চিন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষের অনেক আগের ঘটনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পেরেছে।



ভাইরাল হওয়া এই ক্লিপটির প্রথম অংশে চিনা ফৌজের সঙ্গে বচসারত ভারতীয় জওয়ানের উর্দির ওপর আইটিবিপি কথাটি লেখা রয়েছে, যার পুরোটা হল "ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিশ।" এই বাহিনীটি কেন্দ্রীয় সিআরপিএফ-এর অন্তর্গত এবং আদৌ ভারতীয় ফৌজের অংশ নয়। নিহত সন্তোষ বাবু কিন্তু ছিলেন ভারতীয় ফৌজের ১৬ নম্বর বিহার রেজিমেন্টের কমান্ডার, মোটেই ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিশের কেউ নন। এতে প্রমাণ হয়, তিনি ভাইরাল ক্লিপের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন।

দ্বিতীয় ক্লিপ (১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড থেকে ৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড)
জুড়ে দেওয়া দ্বিতীয় ফুটেজটি অনুসন্ধান করে আমরা ইউ-টিউবে একটি ভিডিও পাই, যার শিরোনাম: "দেখুন, ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকতে জওয়ানরা চিনা সেনাদের বাধা দিচ্ছে, প্রথম অংশ l" এটি ডেকান হেরাল্ড পত্রিকা আপলোড করে ২০১৭ সালের ৭ জুলাই।

ডেকান হেরাল্ড জানায়, ভিডিওটির সত্যতা তারা যাচাই করতে পারেনি, এটির কোনও সন-তারিখও দেওয়া নেই, "তবে এটি ২০১৭ সালের জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহের ঘটনা বলেই মনে হয় l"



আমরাও আলাদা ভাবে ভিডিওটির উৎস খুঁজে বের করতে পারিনি, তবে এই ক্লিপ দুটি যে সাম্প্রতিক নয় এবং এতে যে কর্নেল সন্তোষ বাবুর চিনা সৈন্যদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা নেই, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পেরেছি।

এর আগে বুম ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টের পর্দাফাঁস করেছে, যাতে সন্তোষ বাবুর কন্যা বলে একটি মেয়ের তাঁর ছবির সামনে করজোড়ে শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য ভুল ভাবে শেয়ার করা হয়।

আরও পড়ুন: বিজেপি আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য ২০১৭ সালের ছবিকে গাঁধীদের ২০০৮ সালে চিন সফর বললেন

Updated On: 2020-06-22T14:01:13+05:30
Claim :   ভিডিও দেখায় প্রয়াত কর্নেল সন্তোষ বাবু চিন সৈন্যদের সঙ্গে কথাকাটি করছেন
Claimed By :  ABN Andhra Jyothi
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.