'বাবরি হাসপাতাল' তৈরি নিয়ে ভাইরাল দাবি অস্বীকার ইউপির ওয়াকফ বোর্ডের

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ওয়াকফ বোর্ড জানায় যে, 'বাবরি হাসপাতাল' সংক্রান্ত পোস্টগুলি মিথ্যে।

অযোধ্যায় তাদেরকে দেওয়া জমিতে 'বাবরি হাসপাতাল' তৈরি করার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে উত্তরপ্রদেশের সুন্নি ওয়াকাফ বোর্ড। সোশাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করা হয় যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দেওয়া জমিতে মসজিদের বদলে 'বাবরি' হাসপাতাল তৈরি করা হবে। কিন্তু ওয়াকাফ বোর্ড একটি বিবৃতিতে এ কথা অস্বীকার করেছে।

পোস্টগুলিতে আরও মিথ্যে দাবি করা হয়েছে যে, ওই বাবরি হাসপাতালের ডিরেক্টর হবেন ডাঃ কাফিল খান, যিনি বর্তমানে মথুরা জেলে আটক আছেন। তাঁদের বিবৃতিতে বোর্ড এ কথাও খারিজ করেছে।

বুম মুসলমান পক্ষের আইনজীবী এমআর সমসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। উনি বলেন, সুন্নি ওয়াকাফ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তৈরি ট্রাস্টই তাঁদেরকে দেওয়া ৫ একর জমিতে মসজিদ ও অন্য পরিকাঠামো নির্মাণ করার দায়িত্বে থাকবে।

দাবিটি হিন্দি থেকে অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, "কোর্টের দেওয়া জমিতে বাবরি হাপাতাল। ইউপি-র সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড স্থির করেছে যে, সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ৫ একর জমিতে তাঁরা বাবরি হাসপাতাল তৈরি করবেন এবং ডাঃ কাফিল খান সম্ভবত তার ডিরেক্টর হবেন।"

(মূল হিন্দি বয়ান: सुप्रीम कोर्ट ने जो पांच एकड़ जमीन दी थी.. सुन्नी वक्फ़ बोर्ड ने लिया फैसला.. उस पर बनेगा बाबरी हास्पिटल जो AIIMS के बराबर मुफ्त सुविधा देगा..जाने माने डाक्टर #KafilKhan को इस अस्पताल का प्रसासक बनाया जा सकता है.. इस अस्पताल में एक पूरा फ्लोर बच्चों के लिए आरक्षित होगा.. जिसमें चमकी बुखार(Viral Megningits) सहित कई बिमारियों का ईलाज होगा)

এর আগে বুম একটি ছবিকে মিথ্যে প্রমাণ করেছিল। দাবি করা হয়েছিল যে, ছবিটিতে ওই প্রস্তাবিত হাসপাতাল, যেটি সব ধর্মের মানুষের জন্যই খোলা থাকবে, তার নীল নক্সা দেখানো হয়েছে। বাস্তবে, সেটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালের নক্সা।

বুম দেখে বেশ কয়েকটি ফেসবুক ও টুইটার পোস্টে এই দাবি করা হয়েছে।




৯ নভেম্বর ২০১৯-এ সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত রাম জন্মভূমির জমিটিকে ওই মামলার হিন্দু পক্ষকে প্রদান করে এবং রাম মন্দির নির্মাণের পথ খুলে দেয়। ওই মামলায় মুসলমান পক্ষের ওয়াকফ বোর্ড ধ্বংস-করা বাবরি মসজিদের পুনঃনির্মাণ দাবি করে ছিলেন। কোর্ট তাঁদেরকে অযোধ্যার অন্য এক জায়গায় ৫ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয় সরকারকে। ৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্দিরের শিলান্যাস করেন।

ইতিমধ্যে, ২৭ জুলাই, ডাঃ কাফিল খানের জামিনের আবেদন নাকচ হয়ে যায়। তাঁর আইনজীবী বুমকে বলেন যে, ডাঃ খানকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে তা নেহাতই গুজব।


আরও পড়ুন: না, এটি প্রস্তাবিত 'বাবরি হাসপাতাল' ভবনের নকশা নয়

তথ্য যাচাই

৭ অগস্ট ২০২০ তে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড একটি বিবৃতি দিয়ে বলে, পোস্টগুলি মিথ্যে এবং বোর্ডকে অপদস্থ করাই সেগুলির উদ্দেশ্য।

উত্তরপ্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান অধিকর্তা এসএম সোয়েব-এর সই-করা ওই বিবৃতিতে বলা হয় যে, ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন (আইআইসিএফ) নামের বোর্ড একটি ট্রাস্ট গঠন করেছে। সেটি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া জমির ওপর একটি মসজিদ, একটি কমিউনিটি কিচেন বা সম্প্রদায়ের জন্য রান্নাঘর, একটি পাঠাগার এবং হাপাতাল তৈরি করবে।

"আজ বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই বলে মিথ্যে খবর ছড়ানো হচ্ছে যে, ইউপি সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড বাবরি হাসপাতাল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ডিরেক্টর হবেন ডাঃ কাফিল খান। এই খবর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অভিসন্ধি মূলক।"

বিবৃতির পুরো বয়ানটি নীচে দেখা যাবে।

সামসাদ বুমকে বলেন, "মসজিদ মূলত একটি সম্প্রদায়ের ব্যাপার এবং যেভাবে ৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে তাতে বৃহত্তর মুসলমান সমাজ সন্তুষ্ট নয়। সংবিধিবদ্ধ ওয়াকফ কমিটি তা মেনে নিয়েছে এবং একটি মসজিদ নির্মাণ ও সাধারণের জন্য অন্যান্য পরিষেবার ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছে।"

তাছাড়া আইআইসিএফ-এর গঠন সংক্রান্ত খবরে কোথাও 'বাবরি হাসপাতাল' তৈরির কোনও উল্লেখ নেই। এই প্রতিবেদনটিতে আইআইসিএফ-এর সম্পাদক আথার হুসেন কে উধৃত করে অযোধ্যার ধন্নিপুর গ্রামে দেওয়া জমিতে একটি মসজিদ, একটি গবেষণা কেন্দ্র ও পাঠাগার এবং একটি হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনার উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, জনসাধারণকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য ওই সব পরিকাঠামোগুলির শিলান্যাস করতে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। কিন্তু কোথাও কোনও 'বাবরি হাসপাতালের' উল্লেখ নেই।

আরও পড়ুন: কর্ণাটকের গুলবার্গা জামে মসজিদের ছবিকে বলা হল বাবরি মসজিদের পুরনো ছবি

Updated On: 2020-09-14T15:35:25+05:30
Claim Review :   বাবরি হাসপাতাল তৈরি করা হবে যেখানে কাফিল খানকে পরিচালক করা হবে
Claimed By :  Social Media Users
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story