এবিভিপি'র ভরত শর্মা কি দিল্লিতে পুলিশ সেজেছিলেন? একটি তথ্য যাচাই

দিল্লি পুলিশ বুমকে জানায় ছবিতে যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল অরবিন্দ কুমার।

ভাইরাল সোশাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএমইইউ) প্রতিবাদী ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর পুলিশি তৎপরতায় সময়, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও যোগ দিয়ে ছিল। কিন্তু দাবিটি মিথ্যে।

তারিখহীন একটি ছবিতে সম্ভবত সাদাপোশাকের এক পুলিশ কর্মীকে মাথায় হেলমেট ও বুলেট-প্রুফ জ্যাকেট পরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি গত সপ্তাহে ভাইরাল হলে, ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা দিল্লি পুলিশের কাছে জানতে চান কেন তাদের এক কর্মী ইউনিফর্ম পরেননি।

দিল্লি পুলিশ বুমকে জানায় যে, ছবিতে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, তিনি দিল্লি পুলিশেরই একজন কনস্টেবল, এবিভিপির সদস্য নন।

ছবিটি কখন এবং কোথায় তোলা হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়।

ছবিটি সোশাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়াতে শুরু করে তখনই যখন, গত সপ্তাহের শেষে, পুলিশের সঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী সংঘর্ষের ভিডিও ও ছবি প্রচারিত হতে থাকে। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ইউনিভারসিটি ও উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম ইউনিভারসিটির ছাত্র-ছাত্রীরা ওই আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন।

একাধিক ফেসবুক ও টুইটার পোস্টে দাবি করা হয় যে, ছবিটিতে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে তিনি হলেন ভরত শর্মা, দিল্লি ইউনিভারসিটির আইনের ছাত্র এবং বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপির সদস্য।

পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

একই বয়ানে একটি টুইট আর্কাইভ করা আছে এখানে

ভাইরাল ভিডিওয় সাদাপোশাকের পুলিশকে মহিলা বিক্ষোভকারীদের মারতে দেখা যাচ্ছে

আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে লাল জামা-পরা এক ব্যক্তিকে মহিলা বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করতে দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও দাবি করা হয়েছে যে, লোকটি এবিভিপির সদস্য শর্মা। ছবিটি শর্মার ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট সমেত শেয়ার করা হচ্ছে, যদিও সেটি এখন ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।

কালো জ্যাকেট-পরা লোক বিক্ষোভকারীদের লাথি মারছে

বিচলিত করার মতো একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে এক ব্যক্তিকে বিক্ষোভকারীদের লাথি মারতে দেখা যাচ্ছে। সেটিও ভাইরাল হয়েছে এই দাবি সহ যে, লোকটি হল ভরত শর্মা।

সাদাপোশাকে এক পুলিশ কর্মীর ছবির সঙ্গে ভিডিওটি যুক্ত করা হয়েছে। ওই পুলিশ কর্মীকে বিক্ষোভ মোকাবিলা করার বর্ম পরে, লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আর সেই সঙ্গে মহিলা বিক্ষোভকারীদের মারতে দেখা যাচ্ছে লাল শার্ট-পরা লোকটিকে।


তথ্য যাচাই

বিক্ষোভ দমনের বর্ম পরে যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল

দিল্লি পুলিশ বুমকে জানায় যে, বর্ম-পরা যে লোকটিকে ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি দিল্লি পুলিশেরই 'গাড়ি চুরি দমন শাখা'র একজন কনস্টেবল। বুমের সঙ্গে কথা বলার সময় ডিসিপি (কেন্দ্রীয়) এম এস রণধাওয়া বলেন, "এটা দিল্লি পুলিশের 'গাড়ি চুরি দমন শাখা'র একজন কনস্টেবলের ছবি। বিক্ষোভের সময় সুরক্ষার কাজে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছিল।"

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে এটা কনস্টেবল অরবিন্দ কুমারের ছবি।

'ইন্ডিয়া টুডে'কে রণধাওয়া বলেন যে, দিল্লি পুলিশ অনুসন্ধান করে জেনেছে যে, ওপরের ছবিতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি কনস্টেবল অরবিন্দ। তাকে "জামিয়ার বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রবিবার নিউ ফ্রেন্ডস কলোনিতে মোতায়েন করা হয়েছিল। উনি আরও বলেন যে, এএটিএস-এর মত বিশেষ বাহিনী "উশৃঙ্খল জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাধারণত সাদাপোশাকে কাজ করে।

ভিডিওতে যে লোকটি বিক্ষোভকারীদের লাথি মারছে, সে ভরত শর্মা

বুম দেখে শর্মা নিজেই টুইট করে জানিয়েছেন যে, ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে দিল্লি ইউনিভারসিটি ক্যাম্পাসে এক বিক্ষোভকারীকে লাথি মারতে দেখা যাচ্ছে, সেই ব্যক্তি উনি নিজে।

উনি টুইট করে আরও জানান যে, বিক্ষোভ দমনের বর্ম পরে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে তিনি অন্য কেউ। আর যিনি মহিলা বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করছেন, সেই ব্যক্তিও উনি নন।


Updated On: 2019-12-24T20:04:37+05:30
Claim Review :   ছবির দাবি এবিভিপি সদস্য দিল্লি পুলিশের তৎপরতায় সামিল হয়েছে
Claimed By :  Social Media
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story