ফোটানো রসুন জল কি করোনাভাইরাসের ওষুধ হিসেবে কাজ করে? না, ঠিক তা নয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে, করোনাভাইরাসের কোনও ওষুধ এখনও বেরোয়নি।

ইন্টারনেটে প্রচারিত একটি বার্তায় দাবি করা হয়েছে যে, 'ফোটানো রসুন জল' নতুন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ওষুধ হিসেবে কাজ করে। তবে এই দাবির কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের কথা বুম এখনও জানতে পারেনি। ওই ভাইরাসে এখনো পর্যন্ত ১,০১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ওই বার্তায় বলা হয়েছে, "সুখবর! এক বাটি ফোটানো রসুন জল এখন উহানের করোনাভাইরাসের ওষুধ হিসেবে কাজ করছে। এক প্রবীণ চিনা ডাক্তার ওই পথ্যটির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে সেটি কাজ করেছে। সাত (৭) কাপ জলে, আট (৮) কোয়া রসুন কুচিয়ে ফুটিয়ে ওই জল পান করতে হবে। রাতারাতি উন্নতি হবে এবং নিরাময় শুরু হবে। এ কথা শেয়ার করতে পেরে ভাল লাগছে।"

সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বার্তাটি বুমের হেল্পলাইনেও আসে।


বার্তাটি একই দাবি সমেত ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। তাতেও বলা হচ্ছে যে, রসুন কুচিয়ে জলে ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন একজন চিনা ডাক্তার। সেটি খেলে রাতারাতি উপকার পাওয়া যাবে।


তথ্য যাচাই

বুম 'গুগুল স্কলার', 'রিসার্চ গেট' ও 'পাবমেড'-এর মতো বিজ্ঞানের ওয়েবসাইটগুলিতে সর্দি-কাশি ও করোনাভাইরাসের ওপর ফোটানো রসুন জলের প্রভাব সম্পর্কে গবেষণার খোঁজ করে।

সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গে রসুন জলের সম্পর্কের কথা বলা হয় অনেক গবেষণায়। তবে সেটিকে ঘরোয়া টোটকা হিসেবেই গণ্য করা হয়েছে।

ইথিওপিয়ার গন্ডার ইউনিভারসিটির প্রফেসরদের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, রসুন জলে সাধারণ সর্দি-কাশি সারানোর মতো উপাদান আছে। কিন্তু কোনও গবেষণাপত্রেই নতুন করোনাভাইরাসের ওপর তার প্রভাবের উল্লেখ নেই।

ইন্দোনেশিয়াতাইওয়ানের তথ্য যাচাইকারীরা ওই মেসেজটিকে খারিজ করে দিয়েছেন। ওই দেশ দুটিতেও সেটি ভাইরাল হয়েছিল।

সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাসের থেকে নতুন করোনাভাইরাস আলাদা। এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে সেটির কোনও প্রতিষেধক বা ওষুধ এখনও বেরয়নি।


ইন্টারনেটে নতুন করোনাভাইরাসের অনেকগুলি ভুয়ো ওষুধের কথা প্রচার করা হচ্ছে। তার মধ্যে এই রসুন জলের পথ্যটি একটি।

এ পর্যন্ত নতুন করোনাভাইরের সংক্রমণে ১,০১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া সারা বিশ্বে ৪৩, ১২৯ ব্যক্তি আক্রান্ত (বর্তমান সংখ্যা দেখুন জনহপকিন্সে)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসকে আন্তর্জাতিক স্তরে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটির জিনের ম্যাপ বা মানচিত্র তৈরি করতে পেরেছেন। কিন্তু সেটির উৎস এখনও জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে চিনের রাস্তায় ছড়ালো শব দেহ? একটি তথ্য যাচাই

Updated On: 2020-02-11T15:52:27+05:30
Show Full Article
Next Story