না, ভাইরাল এই ভিডিওর ব্যক্তি এইমসের ডাক্তার অর্কপ্রভ সিনহা নয়

বুম যাচাই করে দেখেছে ২৩ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় কোভিড-১৯ ছড়ায়না দাবিটি ভুয়ো এবং ভাইরাল ভিডিওর ব্যক্তিটি বাংলাদেশের ডাক্তার।

সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে ২৩ ডিগ্রির বেশি উষ্ণতায় করোনাভাইরাস ছড়ায় না এবং ওই ভিডিওতে শেয়ার করে ফেসবুকে বলা হয়েছে ওই ডাক্তারের নাম অর্কপ্রভ সিনহা যিনি নাকি এইমসের রেসিডেন্ট ডাক্তার।

৪ মিনিট ১২ সেকেন্ড সময়ের ওই ভাইরাল ভিডিওতে নীল জামা পরা ওই ব্যক্তিকে হাতে পোস্টার নিয়ে বক্তব্য পেশ করতে দেখা যায়।

তাঁর হাতের ওই পোস্টারে লেখা আছে, ''করোনাভাইরাস ও তাপমাত্রা, যেসব এলাকার তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রির উপরে সেখানে এই রোগ ছড়ায় না''

তিনি পোস্টারটি রেখে বলতে শুরু করেন, ''৭০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় কোরানভাইরাস মারা যায়। মুখ ও নাক থেকে বেরনো লালা জাতীয়-ড্রোপলেটের মাধ্যমে ছড়ায় করোনা।... ২৩ ডিগ্রির উপরে যখন ড্রোপলেটটি বেরলো মাটিতে পড়ার সাথে সাথে শুষে যাচ্ছে টেম্পারেচারে। দেখা গেছে যে এই ২৩ এর উপরে কয়েক মিনিটের উপরে বাঁচে না। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। তো কাজেই এই একটা চ্যালেঞ্জ আমি দিতেই পারি। যে সব দেশের তাপমাত্রা ২৩ শের উপর চলে গেছে, শীতকাল পার হয়ে, যে সব দেশে বসন্ত কিংবা গ্রীষ্ম চলে আসসে সেসব দেশে অত গুরুতর কিছু না।...''

আরও পড়ুন: মিথ্যে: চিনা গোয়েন্দা আধিকারিক জানিয়েছেন করোনাভাইরাস একটি জৈব অস্ত্র

ভাইারাল হওয়া পোস্টে ক্যাপশন লেখা হয়েছে, ''এইমস থেকে ডাক্তার অর্কপ্রভ সিনহা রিসেন্ট আপডেটের ডিটেলস পাঠিয়েছন। ভীষণ জরুরি এটা শোনা। Please go through the recent update by Dr. Arkaprava Sinha from.AIIMS''

ভিডিওটি দেখা যাবে এখানে। ভিডিওটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

একই বয়ানে ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে ভিডিওটি।


তথ্য যাচাই

বুম যাচাই করে দেখেছে ২৩ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় কোভিড-১৯ ছড়ায়না দাবিটি ভুয়ো এবং ভাইরাল ভিডিওর ব্যক্তিটি বাংলাদেশের চিকিংসক জাকির হোসেন সবুজ।

বেশি তাপমাত্রায় ছড়ায়না?

ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে ২৩ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ড্রপলেট থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। যাদিও পেস্টার বা তাঁর বক্তব্যে কোনও এককের কথা বলেননি। তবুও তাঁর বক্তব্য থেকে ধরে নেওয়া যায় তিনি বাতাসের উষ্ণতার কথা বলছেন। তাই সেলসিয়াসের কে আমরা উষ্ণতার একক ধরে নিলাম।

বর্তমান করোনাভাইরাস কোভিড-১৯, ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কার্যকর থাকে না এ ব্যাপারে কোনও যুক্তিপূর্ণ গবেষণা পত্র খুঁজে পায়নি বুম।

দুটি জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য করোনাভাইারসের (কোভিড ১৯ নয়) সক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছে করোনাভাইরাস বেশ কয়েকদিন সংক্রমণে সক্ষম থাকে। গবেষণাপত্রটি পড়া যাবে ''জার্ণাল অফ হসপিটাল ইনফেকশান''-এ।

কোভিড ১৯ নিয়ে আরও বিস্তারিত গবষণা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে ২৩ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় কোভিড-১৯ ড্রপলেটের সক্ষমতা নিয়ে যে দাবি ওই ব্যক্তি করেছেন তার সারবত্তা নেই। মুম্বই ও কলকাতার তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি এখন।

আরও পড়ুন: রোদ পোহালে পুড়ে ছাই করোনাভাইরাস, ভাইরাল হল ভুয়ো বার্তা

এইমসের ডাক্তার?

ওই ব্যক্তির বলা বাংলা কথার উচারণের আঙ্গিক দেখে বুম প্রাথমিকভবে ধারণা করে তিনি হয়ত বাংলাদেশের বাসিন্দা। বুম ভিডিওটি নিয়ে ফেসবুকে কিওয়ার্ড সার্চ করে জানতে পারে একই ভিডিও শনিবার, ৭ মার্চ ২০২০ তারিখে ফেসবুকে আপলোড করা হয়েছিল। ভিডিওটিতে ক্যাপশন লেখা হয়েছিল, ''Please share.............Doctor Zakir Hossain Shobuj(About Carona Virus)''

পোস্টটি দেখা যাবে এখানে। পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

বুম এই নাম দিয়ে ফেসবুক সার্চ করে জানতে পারে মূল ভিডিওটি জাকির হোসেন সবুজ নামে এক বাংলাদেশের চিকিৎসকের। তিনি কাশি নিয়ে আরেকটি ভিডিও (আর্কইভ লিঙ্ক) পোস্ট করেন ১৯ মার্চ ২০২০।

আরও পড়ুন: হোমিওপ্যাথি ওষুধ আর্সেনিকাম অ্যালবাম ৩০ কি করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করে? একটি তথ্য যাচাই

এই ভিডিওটিতে ওই ব্যক্তিকে 'UAMCH' লেখা অ্যাপ্রন পরে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ইউএএমসিএইচ বাংলাদেশের একটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ যার সম্পূর্ণ নাম ''উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ।

বুম ভাইরাল ভিডিওটি ও জাকির হোসেন সবুজের ভিডিওটির ছবি মিলিয়ে দেখেছে। বুম নিশ্চিত হতে পেরেছে যে এইমসের ডঃ অর্কপ্রভ সিনহা নামে ভাইারাল হওয় ভিডিওটি আসলে বাংলেদেশের চিকিৎসক জাকির হোসেন সবুজের।

বামদিকের ভাইরাল ভিডিও ও ডানদিকের ভিডিওটির ব্যক্তি একই ব্যক্তি।

বর্তমানে জাকির হোসেন সবুজের ফেসবুক প্রোফাইলটি লকড্ করা আবস্থায় হয়েছে। যা দেখা যাবে এখানে (আর্কাইভ লিঙ্ক)।


Updated On: 2020-03-28T21:28:20+05:30
Claim Review :   ভিডিওর দাবি এইমসের ডাক্তার অর্কপ্রভ সিনহা ২৩ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় করোনাভাইরাস বাঁচে না
Claimed By :  Facebook Posts, Dr Arkaprabva Sinha
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story