সম্প্রতি হিন্দি সংবাদমাধ্যম নবভারত টাইমসের (NBT) প্রকাশিত গ্রাফিক দাবি করে কথাবাচক দেবকীনন্দন ঠাকুরের (Devkinandan Thakur) এক উক্তি ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে।
ভাইরাল ওই গ্রাফিকে লেখা হয়, দেবকীনন্দন বলেছেন শূদ্র জাতির লোকেরা যৌন মিলনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন, ব্রাহ্মণরা নন। বিবাহের পরে মন্ত্রশক্তির মাধ্যমে ব্রাহ্মণরা যৌন মিলন ছাড়াই সন্তান জন্ম দেন বলেও কথাবাচক মন্তব্য করেছেন বলে গ্রাফিকটিতে উল্লেখ করা হয়।
বুম যাচাই করে দেখে, কথাবাচক দেবকীনন্দন ঠাকুর এমন কোনও মন্তব্য করেননি। নবভারত টাইমস এবং দেবকীনন্দন ঠাকুর উভয়ই ভাইরাল এই দাবিটি খণ্ডন করেছেন।
ভাইরাল দাবি
ফেসবুকে ভাইরাল গ্রাফিকটিতে সংবাদমাধ্যম এনবিটি ও কথক দেবকীনন্দনের নাম উল্লেখ করে লেখা হয়, "শূদ্র জাতির লোকেরা যৌন মিলনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়, অন্যদিকে ব্রাহ্মণরা তাদের মন্ত্রের শক্তির মাধ্যমে বিবাহের পরে যৌন মিলন ছাড়াই সন্তান জন্ম দেয়।"
পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে ও তার আর্কাইভ দেখতে এখানে।
অনুসন্ধানে আমরা কী পেলাম: ভাইরাল গ্রাফিকে থাকা উক্তিটি ভুয়ো
১. সংবাদমাধ্যম এনবিটির স্পষ্টীকরণ: বুম যাচাই করে দেখে ভাইরাল গ্রাফিকটি ভুয়ো। দেবকীনন্দন ঠাকুরের এমন মন্তব্য সংক্রান্ত কোনও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনও আমরা খুঁজে পাইনি।
আমরা নবভারত টাইমসের নিউজ ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলটি দেখেও এমন কোনও সংবাদ প্রতিবেদন পাইনি যেখানে এই মন্তব্যটির উল্লেখ রয়েছে। বরং, আমরা নবভারত টাইমসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পোস্ট করা দেবকীনন্দন ঠাকুরের অন্য এক বক্তব্য সংক্রান্ত প্রকাশিত গ্রাফিক পাই, যাতে লেখা ছিল, ‘যদি প্রিয়জনকে বাঁচানো ঘৃণা হয়, তবে আমরা তা মেনে নিই।’
নবভারত টাইমসের তরফে জানান হয়, আসল গ্রাফিকটিকে সম্পাদনা করে ভুয়ো এই গ্রাফিক বানানো হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নবভারত টাইমস তাদের অফিসিয়াল এক্স পেজ থেকে করা এক পোস্টে ভাইরাল গ্রাফিকটি নকল বলে জানায়।
২. দেবকীনন্দন ঠাকুরের বক্তব্য: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেবকীনন্দন ঠাকুরও নিজের ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে ভাইরাল গ্রাফিকে থাকা ভুয়ো দাবিটি খণ্ডন করেন। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে দেবকীনন্দন ঠাকুর বলেন, তিনি এমন কখনও এমন মন্তব্য করেননি।






