দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (DCP) সুমিত ঝা ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং বলছেন তাকে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনতে চাপ দেওয়া হয়েছিল - এমন দাবিতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
বুম যাচাই করে দেখে, ভিডিওটি ডিজিটালভাবে বিকৃত করা হয়েছে। ভিডিওতে সুমিত ঝার ঠোঁটের নড়াচড়ার সাথে অডিওর কোনও মিল নেই। এছাড়া, এআই শনাক্তকরণ টুলে করা পরীক্ষায় ভিডিওটিকে কৃত্রিমভাবে তৈরি (সিন্থেটিক) বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির মিছিল চলাকালীন আন্দোলনকারীদের সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়া ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরে ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সিজেপি দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহার করে।
ভাইরাল দাবি
৪৭ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে দাবি করা হয়, সুমিত ঝা অভিযোগ করছেন তাকে ছাত্রদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। সেই চাপ মেনে নিতে না পেরে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলেও ভিডিওতে শোনা যায়।
পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে।
কী পেলাম আমরা অনুসন্ধানে: ভাইরাল ভিডিওটি ডিপফেক
১. আসল ভিডিওতে পাকিস্তানি প্রোপাগান্ডা অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে সতর্ক করছিলেন সুমিত ঝা: রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, ভিডিওটির আসল সংস্করণ ২৩ জুলাই দিল্লি পুলিশের অফিসিয়াল এক্স (পূর্ববর্তী টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল।
আসল ভিডিওতে সুমিত ঝা ছাত্রছাত্রীদের সতর্ক করে বলেন, সিজেপি আন্দোলনের সময় দিল্লি পুলিশকে ঘিরে ভুয়ো তথ্য ছড়াতে পাকিস্তানভিত্তিক একাধিক সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট সক্রিয় ছিল। তিনি জানান, এমন ৪০০-রও বেশি অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই অপারেশন সিঁদুরের সময়ও সক্রিয় ছিল।
বুম এর আগেও এই ধরনের ডিপফেক ভিডিওর ফ্যাক্ট চেক করেছে।
এছাড়া, দিল্লি পুলিশ থেকে সুমিত ঝার পদত্যাগের বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি।
২. এআই শনাক্তকরণ টুলের ফলাফল: ভাইরাল ভিডিওটিতে অডিও ও ঠোঁটের নড়াচড়ার মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা যায়, যা ডিপফেক ভিডিওর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
ভিডিওটি Deepfake O Meter-এর এআই শনাক্তকরণ টুলে পরীক্ষা করলে সেটি ভিডিওটিকে এআই দিয়ে তৈরি (AI-generated) বলে শনাক্ত করে।






