সম্প্রতি অভিনেতা ও তৃণমূল সাংসদ দেব (Dev Adhikari) সোশ্যাল মিডিয়ায় ডাকটিকিটের ছবি শেয়ার করে জানান, ভারতীয় ডাক বিভাগ (India Post) তার সম্মানে ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে।
'ইন্ডিয়া পোস্ট'-কে ধন্যবাদ জানিয়ে 'অভিভূত' দেব লেখেন, এমন সম্মান পাওয়া তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো। তৃণমূল সাংসদ জানান, এই স্বীকৃতিকে তিনি মানুষের তার প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাসকে উৎসর্গ করছেন।
বুমের তরফে ভারতীয় ডাক বিভাগের পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এক আধিকারিক জানান, দেবের নামে ডাকটিকিট প্রকাশের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ তাদের কাছে নেই। এছাড়াও বুম যাচাই করে দেখে, অর্থের বিনিময়ে ভারতীয় ডাক বিভাগের 'মাই স্ট্যাম্প' পরিষেবা ব্যবহার করে এমন ব্যক্তিগত ডাকটিকিট তৈরি করা যায়।
ভাইরাল দাবি
অভিনেতা দেব নিজের ছবিসহ ডাকটিকিটের ছবিটি পোস্ট করে ইংরেজিতে লেখেন, "আমি অত্যন্ত সম্মানিত এবং অভিভূত। আমার নামে ডাকটিকিট প্রকাশ করার জন্য 'ইন্ডিয়া পোস্ট'-কে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। নিজেকে এমন সম্মানের যোগ্য বলে ভাবাটাও আমার কল্পনার অতীত। এই স্বীকৃতি যতটা মানুষ হিসেবে আমার জীবনযাত্রার, ঠিক ততটাই মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের। চিরকৃতজ্ঞ।"
পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে ও তার আর্কাইভ দেখতে এখানে।
অতঃপর, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের পোস্টের ভিত্তিতে 'দেবের নামে ডাকটিকিট চালু করল ভারতীয় ডাক বিভাগ' দাবিতে খবর প্রকাশ করে এবিপি আনন্দ সমেত অন্যান্য সংবাদমাধ্যম।
অনুসন্ধানে কী পাওয়া গেল: ভারত সরকার অভিনেতা দেবের নামে প্রকাশ করেনি এই ডাকটিকিট
১. ভারত সরকার প্রকাশ করেনি এই ডাকটিকিট: বুম প্রথমে ভারতীয় ডাক বিভাগ অভিনেতা দেবের নামে কোনও স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে কিনা তা জানতে তাদের ওয়েবসাইটটি খুঁজে দেখে। তবে অভিনেতা দেবের নামে সরকারিভাবে কোনও স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি সেখানে পাওয়া যায়নি।
তবে আমরা লক্ষ্য করি, অভিনেতা দেবের পোস্টে থাকা ডাকটিকিটের ছবির সাথে ‘মাই স্ট্যাম্প’ (আমার ডাকটিকিট) নামে ভারতীয় ডাকবিভাগের এক স্কীমে প্রকাশিত ডাকটিকিট তথা 'ফেয়ারি কুইনের' সাথে মিল পাওয়া যায়। ভারতীয় ডাক বিভাগের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, "‘মাই স্ট্যাম্প’ হল ইন্ডিয়া পোস্টের ব্যক্তিগতকৃত (Personalised) ডাকটিকিটের শিটের ব্র্যান্ড নাম। নির্বাচিত স্মারক ডাকটিকিটের পাশে গ্রাহকের নিজের ছবি, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতীক, কিংবা শিল্পকর্ম, ঐতিহ্যবাহী ভবন, বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র, ঐতিহাসিক শহর, বন্যপ্রাণী ও অন্যান্য পশুপাখির ছোট ছবি (থাম্বনেইল) ছাপিয়ে এই ব্যক্তিগতকরণের সুবিধাটি দেওয়া হয়।"
এছাড়াও অনুসন্ধানে ২০১৭ সালে এবিষয়ে প্রকাশিত দ্য হিন্দুর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে সাংসদ-অভিনেতা দেবের পোস্ট করা ডাকটিকিটের ছবির অনুরূপ ট্রেনের ছবিসমেত 'মাই স্ট্যাম্প' পরিষেবা ব্যবহার করে প্রকাশিত অন্য এক শিশুর ছবিসমেত ডাকটিকিট লক্ষ্য করা যায়।
ভারতীয় ডাক বিভাগের 'মাই স্ট্যাম্প' পরিষেবা ব্যবহার করে প্রকাশিত ডাকটিকিট, ছবির কৃতিত্ব: দ্য হিন্দু
প্রতিবেদনটিতে তৎকালীন তামিলনাডুর পশ্চিম সার্কেলের পোস্ট মাস্টার জেনারেল সারদা সম্পতের বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়, ভারতীয় ডাক বিভাগের 'মাই স্ট্যাম্প' পরিষেবা ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে স্মারক ডাক টিকিট সবাই তৈরি করতে পারেন। তবে সম্পত জানান, "ইন্ডিয়া পোস্ট যেসব স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে, তা শুধুমাত্র বিখ্যাত এবং প্রয়াত ব্যক্তিদের জন্যই এবং অনেক আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরেই এর অনুমোদন পাওয়া যায়।"
ডাক বিভাগের ওয়েবসাইটে জানান হয়, "একটি ‘মাই স্ট্যাম্প’ শিটে ১২টি ডাকটিকিট থাকে, যার প্রতিটির অভিহিত মূল্য ৫ টাকা এবং একটি শিটের দাম ৩০০ টাকা"।
২. ডাক বিভাগের স্পষ্টীকরণ: বুম এরপর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ভারতীয় ডাক বিভাগের পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের যোগাযোগ ভবনের এক আধিকারিকের সাথে কথা বলে। বুমকে এবিষয়ে ওই আধিকারিক জানান, "ভারতের কোনও জায়গায় কাউকে নিয়ে ডাকটিকিট প্রকাশিত হলে আমাদের তা ডাকবিভাগের প্রতিটি সার্কেলকে তা সরকারিভাবে জানান হয়। ইন্ডিয়া পোস্ট দেব অধিকারীর ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে বলে আমাদের কাছে এখনও অবধি কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই।"
এছাড়াও তিনি ডাক বিভাগের 'পার্সোনালাইজড মাই স্ট্যাম্প' স্কীমটি সম্পর্কে জানান, "ব্যক্তিগত উদ্যোগে 'মাই স্ট্যাম্প' বানানো হয়। পোস্ট অফিস কাউন্টারে সেই স্ট্যাম্প বিক্রি হয় না।"






