রাস্তায় প্রকাশ্যে কিছু ব্যক্তিকে হাতে দড়ি পড়িয়ে লাঠিপেটা করার এক ভিডিও সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করা হয়, রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে (Sri Ganganagar Rape Case) ১৩ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণে অভিযুক্তদের এভাবেই লাঠিপেটা করে জনগণ।
বুম দেখে, ভাইরাল ভিডিওর সাথে রাজস্থানের সাম্প্রতিক নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনার সম্পর্ক নেই। গত মার্চ মাসের গুজরাটের এই ভিডিওতে তোলাবাজির এক গ্যাংয়ের সাথে জড়িত অভিযুক্তদের পুলিশের প্রকাশ্যে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুন রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে ১৩ বছরের এক নাবালিকা তার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর এক রিক্সাচালক তাকে এক হোটেল মালিকের কাছে বিক্রি করে দেয়। তদন্তকারীদের দাবি, এরপর বিভিন্ন হোটেলে প্রায় পাঁচ দিনে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে প্রায় ৩০ জন। ঘটনার প্রেক্ষিতে, কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ব্যবহৃত চারটি হোটেল শ্রীগঙ্গানগরে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলে স্থানীয় প্রশাসন।
ভাইরাল দাবি
ভিডিওটি পোস্ট করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী পোস্ট করে লেখেন, "রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর। ১৩ বছরের নাবালিকাকে হোটেলে আটকে রেখে গণধর্ষণ। হাতেনাতে পাকড়াও ৮ অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পাবলিক ট্রিটমেন্ট।"
পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে ও তার আর্কাইভ দেখতে এখানে।
ভাইরাল দাবি: ভাইরাল ভিডিও পুরনো, গুজরাটের ঘটনার
১. ভিডিওতে দেখতে পাওয়া ঘটনা গুজরাটের: বুম প্রথমে ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে জানতে তার কিছু ফ্রেমকে রিভার্স সার্চ করে। এর মাধ্যমে ১৯ মার্চ, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত নিউজ১৮ গুজরাটির এক ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায় যেখানে ভাইরাল এই ভিডিওর বিষয়ে রিপোর্ট করা হয়।
ওই ভিডিও প্রতিবেদনে গুজরাটি ভাষায় ক্যাপশন হিসাবে লেখা হয়, "সমন্বয়ের অভাবে পাটনে অসামাজিক উপাদানদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় ভুল করে এক নারী পুলিশকর্মী লাঠির আঘাতে আহত হন।"
২. গুজরাটে বেত্রাঘাতের ঘটনার সংবাদ প্রতিবেদন: সম্পর্কিত কীওয়ার্ড সার্চ করে এরপর আমরা ঘটনা সম্পর্কিত গত মার্চ মাসের বেশ কিছু সংবাদ খুঁজে পাই। ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত নিউজ১৮ গুজরাটি ও এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাটের পাটনে ক্রাইম সিন পুনর্গঠনের সময় এক তোলাবাজ চাঁদাবাজ চক্রের অভিযুক্ত ১৮ জনকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করে পুলিশ। পুলিশের তরফে জানান হয়, মন্দিরের অনুদান নিয়ে গন্ডগোলের জেরে অভিযুক্তরা স্থানীয়দের এবং একটি পুলিশ পিসিআর ভ্যানে হামলা চালিয়েছিল। 'ঝিলিয়া' গ্যাংয়ের সাথে অভিযুক্তরা যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে।






