সামরিক উর্দিধারী কিছু ব্যক্তির জামার কলার ধরে টানতে টানতে একজনকে জোর করে টেনে গাড়িতে তোলার ভিডিও সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মোথাবাড়ির দৃশ্য দাবিতে ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে।
ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হয়, তাতে ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনী এভাবেই একজন 'জঙ্গি'কে মোথাবাড়ির কালিয়াচকে গ্রেপ্তারের ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়।
বুম যাচাই করে দেখে, ভিডিওটি বাংলাদেশের। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের এই ভিডিওতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের সময় সেদেশের সেনাবাহিনীকে কিছু ব্যক্তিকে আটকের ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়।
কিছুদিন আগে এসআইআরে নাম বাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার মোথাবাড়িতে বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় উত্তাল হয় রাজ্য রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে শানিয়ে গোটা ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোথাবাড়ির সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আইনশৃঙ্খলা তার হাতে নেই জানিয়ে ঘটনার পিছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত রয়েছে বলে দাবি করেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গোটা ঘটনার তদন্তভার নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
ভাইরাল দাবি
ভিডিওটি পোস্ট করে এক ব্যবহারকারী ক্যাপশন হিসেবে লেখেন, "খেলা শুরু করল আমাদের দেশের কেন্দ্র বাহিনী মোথাবাড়ির কালিয়াচক জঙ্গি গুলোকে ঘর থেকে কলার টানতে টানতে নিয়ে বের করে কেলাচ্ছে"।
পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে।
কী পেলাম আমরা অনুসন্ধানে: ভিডিওটি বাংলাদেশের নির্বাচনের সময়কার ঘটনার
১. ভিডিওতে দেখতে পাওয়া বাংলাদেশের দৃশ্য: আমরা প্রথমে ভিডিওতে থাকা দাবিসমেত সম্পর্কিত কীওয়ার্ড সার্চ করে ভিডিওটির এক স্পষ্টতর সংস্করণ খুঁজে পাই। স্পষ্টতর ভিডিওটি খুঁটিয়ে লক্ষ্য করলে ভিডিওতে দেখতে পাওয়া দুটি সাইনবোর্ডে 'মানিকনগর মডেল হাই স্কুল' ও 'মুগদা থানা স্বেচ্ছাসেবক দল' লেখার উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়।
গুগলে মুগদা থানা সম্পর্কিত কীওয়ার্ড সার্চ করলে এলাকাটি বাংলাদেশের অন্তর্গত এক স্থান বলে দেখতে পাওয়া যায়।
২. ঘটনাটি এবছর বাংলাদেশে হওয়া নির্বাচনের সময়কার: উপরোক্ত তথ্য থেকে সূত্র নিয়ে সম্পর্কিত কীওয়ার্ড সার্চ করে আমরা ইউটিউবে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশী এক চ্যানেলে ভাইরাল ভিডিওটিকে খুঁজে পাই। ভিডিওটি পোস্ট করে তার ক্যাপশন হিসেবে সেখানে লেখা হয়, "ঢাকা নয় আসনের মানিক নগর হাই স্কুল থেকে গ্রেপ্তার তিন"।
ওই ভিডিওতে দেখতে পাওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উর্দি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঢালে 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী' লেখাও দেখতে পাওয়া যায়।






