এনডিটিভির (NDTV) নিউজ বুলেটিনের একটি ডিপফেক (deepfake) ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেখানে চ্যানেলটির উর্দ্ধতন কার্যনির্বাহী সম্পাদক আদিত্য রাজ কৌলকে (Aditya Raj Kaul) খবর পরিবেশন করার সময় বলতে শোনা যায় কাশ্মীরে (Kashmir) ৭২ ঘণ্টায় ১৫ জন ভারতীয় সেনা আধিকারিক (Indian army officers) ইস্তফা (resignation) দিয়েছেন।
ভিডিওতে কৌল আরও দাবি করেন কাশ্মীরে বিচার বহির্ভূত সেনা মোতায়েনই ইস্তফার কারণ এবং তিনি মেজর এরশাদ রহমান খান নামক এক সেনা আধিকারিকের ইস্তফা পত্রের কোথাও উল্লেখ করেন।
বুম দেখে এধরণের কোনও নিউজ বুলেটিন এনডিটিভি প্রকাশ করেনি। একাধিক এআই যাচাইকারী টুলে পরীক্ষা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি ভাইরাল ভিডিওর অডিও অংশ এআই নির্মিত।
দাবি
এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে দাবি করেন, "১০ দিনে ১৫ ভারতীয় সেনা অফিসারের পদত্যাগ ।কাশ্মীরের ভয়াবহ নৃশংসতা পদত্যাগপত্রে প্রকাশ। কাশ্মীরে বিচার বহির্ভূত কাজে মোতায়েনের অভিযোগে গত ১০ দিনে ১৫ জন ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এই কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত নৃশংসতার জন্য ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা হতে পারে। উনারা উনাদের রেজিগনেশন লেটারে এটাও উল্লেখ করেছেন যে কাশ্মীরে ভারত সরকারের নির্দেশে সেনারা ভয়াবহ ডিটেনশন চালাচ্ছে এবং এটাকে গাজার মতো মানোবেতর বিষয় হিসেবে উনারা দেখছেন !"
পোস্টটি দেখুন এখানে, আর্কাইভ দেখুন এখানে।
অনুসন্ধানে আমরা কী পেলাম
১. মূল ভিডিও: বুম ভাইরাল দাবিটি যাচাই করতে প্রথমে ভারতীয় সেনা আধিকারিক, বিশেষ করে আরশাদ রহমান খান নামক এক আধিকারিকের ইস্তফা দেওয়া সংক্রান্ত গুগলে সম্পর্কিত কিওয়ার্ড সার্চ করে। তবে, সার্চের মাধ্যমে আমরা কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন পাইনি যা ভাইরাল দাবিটি সমর্থন করে।
আমরা ইউটিউবে কিওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে এনডিটিভির চ্যানেলে ১৭ নভেম্বর, ২০২৫-এ আপলোড করা একটি ভিডিও পাই যেখানে কৌলকে একই পোশাক এবং ভাইরাল ভিডিওর অনুরূপ প্রেক্ষাপটে দেখা যায়। ভিডিওয় কৌল ইতালীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক ফ্রান্সেসকা মারিনোর সঙ্গে তার বই এবং নভেম্বর ১০-এর দিল্লি বিস্ফোরণের সঙ্গে জৈশ-ই-মহম্মদের সম্ভাব্য যোগ নিয়ে কথা বলেন। ভারতীয় সেনা আধিকারিকদের পদত্যাগ করার কোনও উল্লেখ তাদের আলোচনায় করা হয়নি।
২: ভাইরাল ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি: ভাইরাল ভিডিও পর্যবেক্ষণ করলে লক্ষ্য করা যায় উচ্চারিত শব্দের সঙ্গে কৌলের ঠোঁটের নড়াচড়া মেলে না। এর থেকে ইঙ্গিত নিয়ে, আমরা নিউ ইয়র্কের বাফেলো ইউনিভার্সিটির তৈরি মিডিয়া ফরেনসিক্স ল্যাবের এআই যাচাইকারী টুল ডিপফেক-ও-মিটারে ভিডিওটি পরীক্ষা করি। ডিপফেক-ও-মিটারের একাধিক টুলে করা পরীক্ষায় ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরির যথেষ্ট সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।
নিশ্চিত হতে, এরপর আমরা হিয়ার ডিপফেক ভয়েস যাচাইকারী টুলে ভিডিওর অডিও অংশ পরীক্ষা করি। পরীক্ষায় অডিওটিকে ডিপফেক হিসাবে শনাক্ত করেছে।






