ইরানে (Iran) বর্তমানে চলতি প্রতিবাদের (protest) মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মহিলার একটি মঞ্চের উপর উঠে হিজাব (hijab) খুলে ফেলার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ব্যবহারকারীরা ভিডিওটি শেয়ার করে বিভ্রান্তিকর দাবি করেছেন ঘটনাটি ইরানের এবং ভিডিওর মহিলা ইরানি (Iranian woman)।
ভিডিওয় প্রতিবাদকারী মহিলাকে হিজাবের সাথে সাথে তার কোটও খুলে ফেলতে দেখা যায় এবং তার পরনে একটি সাদা টি-শার্ট দেখা যায় যেখানে ইংরেজিতে "F**k Khamenei" কথাটি লেখা রয়েছে।
বুম দেখে ভাইরাল ভিডিও ইরান নয় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের। ১১ জানুয়ারী, ২০২৬-এ ইরানি নারী ও আন্দোলনকারীদের সমর্থনে প্যারিসে একটি প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে ফরাসী আন্দোলনকারী ক্যামিল ইরোসকে ভিডিওয় হিজাব খুলে ফেলতে দেখা যায়। তিনি নিজেও বুমকে এবিষয়ে নিশ্চিত করেন।
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ইরানে জল-বিদ্যুৎ, মূল্যবৃদ্ধি, ইন্টারনেট সেন্সরশিপ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। এই প্রেক্ষাপটেই ভাইরাল হয় ভিডিওটি।
ভাইরাল দাবি
এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, "ইরানের এই সাহসী মেয়েটিকে দেখুন...সে তার বোরখা খুলে খামেনির ইসলামী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদ শুরু করেছে...বো*রখা খোলার পর তার টপে লেখা ছিল - F***K Khameni...#iran এর সাহসী মেয়েরা, ই*স*লা'মী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।"
পোস্টটি দেখুন এখানে, আর্কাইভ দেখুন এখানে।
অনুসন্ধানে আমরা কী পেলাম: ভিডিওয় দৃশ্যমান মহিলা ফরাসী
১.ভাইরাল ভিডিও ফ্রান্সের: বুম ভাইরাল ভিডিওর কিফ্রেমের রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ক্যামিল ইরোসের এক্স হ্যান্ডেলে ১১ জানুয়ারি, ২০২৬-এর একটি পোস্টে ভাইরাল ভিডিওটি দেখতে পায়। ক্যামিল তার পোস্টে ইরানের সর্বচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনেইকে ট্যাগ করে ক্যাপশনে তার উদ্দেশ্যে কিছু অপশব্দও ব্যবহার করে।
আমরা ভিডিওর প্রেক্ষাপটে দৃশ্যমান ভবনের গুগল লেন্সে সার্চ করে দেখি সেটি ফ্রান্সের প্যারিসে প্লেস ভিক্টর হুগো চত্বরে অবস্থিত, অর্থাৎ ভিডিওটি ফ্রান্সে তোলা। গুগল ম্যাপেও জায়গাটি দেখা যায় ।
প্যারিসে ১১ জানুয়ারী ২০২৬-এ ইরানি নারী এবং আন্দোলনকারীদের সমর্থনে প্লেস ভিক্টর হুগো থেকে প্লেস দু ট্রোকাডেরোতে অবধি প্রতিবাদ মিছিল আয়োজিত হয়।
ক্যামিল ইরোস তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও একই ভিডিও পোস্ট করেন। ক্যামিলের ইনস্টাগ্রাম থেকে জানা যায় তিনি collectif eros -এর মুখপাত্র। এই সংস্থাটি ফ্রান্সের একটি দক্ষিণপন্থী সংগঠন, যা মূলত এলজিবিটি আন্দোলনে বামপন্থী প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এই সংগঠনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে ক্যামিল একজন প্রাক্তন বামপন্থী।
২. ক্যামিল ইরোসের বয়ান: আমরা নিশ্চিত হতে ক্যামিল ইরোসের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ক্যামিল বুমকে বলেন, "আমি ইরানি নই, যদিও বর্তমানে ফ্রান্সে ইসলামবাদ একটি বড় আতঙ্ক, কিন্তু আমি যা করেছি তা করার জন্য ততটা সাহসের প্রয়োজন হয়নি, যতটা সাহস ইরানি নারীদের দেখাতে হয়। আপনি আমার প্রোফাইলে দেখতে পাবেন, আমি ফরাসী এবং হ্যাঁ, এই ভিডিওটি প্যারিসের।"






