দীপিকা পাড়ুকোনের ছপাক সম্পর্কে ভুয়ো তথ্য ছড়াল স্বরাজ্য

দক্ষিণপন্থী ম্যাগাজিন স্বরাজ্য দাবি করেছে যে এই ছবিটির নির্মাতারা আক্রমণকারীকে একটি হিন্দু নাম দিয়ে তার মুসলিম পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেছেন।

দক্ষিণপন্থী ওয়েবসাইট স্বরাজ্য একটি বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা দাবি করেছে যে ছপাক ছবিটির নির্মাতারা অ্যাসিড আক্রমণকারীর মুসলিম পরিচয় গোপন করার জন্য তার নাম বদলে দিয়েছে।

ছবিটি প্রযোজনা করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন। তিনিই ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। লক্ষ্মী অগ্রবাল নামে এক অ্যাসিড-আক্রান্তের জীবনের ওপর ভিত্তি করে ছবিটি তৈরি হয়েছে।। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার দিনকয়েক আগে কিছু টুইটার ব্যবহারকারী অভিযোগ আনেন যে, ছবিতে ওই অ্যাসিড আক্রমণকারীর নাম নইম খান থেকে পাল্টে রাজেশ করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে আক্রমণকারীর মুসলিম পরিচয় গোপন করার জন্য এবং তাকে এক জন হিন্দু হিসাবে দেখানোর জন্যই এই কাজ করা হয়েছে।



এই সব অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্য নিয়ে স্বরাজ্য একটি প্রতিবেদন লেখে যার শিরোনাম দেওয়া হয়, "বলিউডের নিজস্ব পদ্ধতি: দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ছপকে অ্যাসিড আক্রমণকারীর নাম নইম খান থেকে বদলে হয়ে গেল রাজেশ।" এই প্রতিবেদনটি আর্কাইভ করা আছে এখানে


এই অভিযোগের একমাত্র উৎস হল ইন্টারনেট মুভি ডাটা বেস। ব্যবহারকারীরা আইএমডিবির পেজে ছবির চরিত্রদের নাম ঘটনাটির চরিত্রদের আসল নামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন এবং তাদের ধারণা হয় যে ছবিতে অ্যাসিড আক্রমণকারীর নাম রাজেশ দেওয়া হয়েছে।


স্বরাজ্যের এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে কিছু অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই এই অভিযোগটি তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে এই অভিযোগটির সপক্ষে কোনও তথ্যপ্রমাণ পেশ করা হয়নি।


বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী হুমকি দিয়েছেন, যদি সত্যিই আক্রমণকারীর নাম পাল্টে তাকে মুসলমানের বদলে হিন্দু হিসেবে দেখানো হয়ে থাকে, তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীপিকা পাড়ুকোন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই অভিযোগগুলি এসেছে। কয়েকদিন আগে কিছু মুখোশধারী লোক বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রমণ করে। এই ঘটনায় নিগৃহীতদের সমর্থন জানাতে দীপিকা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে যান।

তথ্য যাচাই

বুম নিউজলন্ড্রির সিইও অভিনন্দন শেখরির সঙ্গে কথা বলে। অভিনন্দন ইতিমধ্যে এই ছবিটির প্রিভিউ দেখেছেন। শেখরি বুমকে নিশ্চিত ভাবে জানান যে, নির্মাতারা কোনও চরিত্রের ধর্ম বদলাননি, শুধুমাত্র তাদের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, "অ্যাসিড আক্রমণকারীর নাম বদলে বাব্বু করা হয়েছে, যেটি আসলে বশির থেকে ছোট করে করা হয়েছে।" উল্লেখ্য যে আক্রমণকারীর আসল নাম নইম খান, যাকে গুড্ডু বলে ডাকা হত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চলচ্চিত্র সমালোচকের সঙ্গেও বুম কথা বলে। তিনিও ছবিটির প্রিভিউ দেখেছেন। তিনিও বুমকে নিশ্চিত ভাবে জানান যে অ্যাসিড আক্রমণকারীর নাম সত্যিই বশির, রাজেশ নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই স্বরাজ্য-র দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। জানান যে তাদের প্রতিবেদনটি মিথ্যা খবরের ভিত্তিতে রচিত এবং তা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। স্বরাজ্য তখন প্রতিবেদনটির শিরোনাম পাল্টে লেখে— "ছপক নিয়ে বিক্ষোভের পর সংবাদে প্রকাশ, সিনেমায় প্রধান অভিযুক্ত নইম খানকে হিন্দু নাম দেওয়া হয়নি।"

স্বরাজ্যের সংস্করণ করা প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।


Claim Review :  ছপাক সিনেমাতে মুসলিম আক্রমণকারীর নাম বদলে হিন্দু নাম করা হয়েছে
Claimed By :  Swarajya, Twitter
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story